পরম দয়ালু ও অসীম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের প্রতি।
মানুষের দুনিয়ার জীবনকে সুখ-শান্তিতে পরিচালিত করা এবং পরকালের চূড়ান্ত সফলতা অর্জনের জন্য আল্লাহ তা‘আলা যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তার মূল উৎস তিনটি—
১. আল-কুরআন
২. সুন্নাহ
৩. সাধারণ জ্ঞান (Common Sense)
জ্ঞানের তিনটি মৌলিক উৎস
১) আল-কুরআন
আল-কুরআন হলো আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত চূড়ান্ত ও প্রামাণ্য জীবনবিধান। এটি মানবজাতির জন্য হিদায়াত, রহমত এবং পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
২) সুন্নাহ
সুন্নাহ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাদর্শ ও বাণী, যা কুরআনের বাস্তব ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ। কুরআনের নির্দেশনাকে বাস্তব জীবনে কীভাবে অনুসরণ করতে হবে—তা সুন্নাহ আমাদের শিক্ষা দেয়।
৩) সাধারণ জ্ঞান (Common Sense)
সাধারণ জ্ঞানও আল্লাহপ্রদত্ত এক নিয়ামত। মানুষ তার বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহার করে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নির্ণয় করে এবং আমল বা কাজ সম্পাদন করে। তবে এই জ্ঞানকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত করতে হবে।
রমজান ও জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব
পবিত্র মাহে রমজান হলো কুরআন নাযিলের মাস। এই মাস আমাদেরকে কুরআনের সাথে সম্পর্ক গভীর করার, তা বুঝে পড়ার এবং জীবনে বাস্তবায়নের বিশেষ সুযোগ এনে দেয়।
জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন কুরআনের সঠিক জ্ঞান অর্জন। কারণ কুরআনই হলো মানবজীবনের মূল পথনির্দেশিকা।
মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন—
“তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা পড়ে গেছে?”
— (সূরা মুহাম্মদ, ৪৭:২৪)
এই আয়াত আমাদেরকে কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা ও অনুধাবনের আহ্বান জানায়।
উপসংহার
রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, জ্ঞান অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস।
আসুন, আমরা কুরআনের জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হই, সুন্নাহর অনুসরণ করি এবং আল্লাহপ্রদত্ত সাধারণ জ্ঞানকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাই।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন বুঝে পড়ার এবং সে অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।