নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১০ অক্টোবর ২০২৬

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। পরে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

২৪২ পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী তিন লাখের বেশি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। এ পদে মোট ২৪২ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরীক্ষা আয়োজনের জন্য রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০০টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অংশগ্রহণের প্রস্তুতির মধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ

পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ও উত্তর একটি চক্রের হাতে পৌঁছে যায় এবং কিছু পরীক্ষার্থীকে সেগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এমনকি প্রার্থীপ্রতি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়ও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

প্রথম আলো ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক জানিয়েছেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।

এর আগে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্মসচিব ডি এম আতিকুর রহমানও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা এবং পরীক্ষা স্থগিতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।

স্বচ্ছ তদন্ত ও নতুন পরীক্ষার দাবি

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়া বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জন্য এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এ অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন পরীক্ষার তারিখ, পরীক্ষার নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত ও স্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

সর্বশেষ তথ্য: ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন তারিখ ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট ও নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।