
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত স্থানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরল দলটি। রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখনো স্পিকার পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান এখনো কোনো সাংবিধানিক বা মন্ত্রিসভা-সংক্রান্ত দায়িত্ব পাননি। তাঁদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে দলীয় মহলে নানা আলোচনা থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলীয় একটি সূত্রের দাবি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে একটি সম্মানজনক সাংবিধানিক দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে ঘনিষ্ঠদের ধারণা। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন হলে তা সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে এবং এ সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে ড. আবদুল মঈন খানের নাম স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় মহলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ নিয়েও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এবারের নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। জোটের শরিকরা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। ফলে জাতীয় সংসদে জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন যুক্ত হলে জোটের আসনসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 









